হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র
মন্ত্রের অর্থ
এই মহামন্ত্র ভগবানের তিনটি দিব্য নাম—'হরে', 'কৃষ্ণ' এবং 'রাম' এর সমন্বয়ে গঠিত। এতে মোট ১৬টি শব্দ (৩২টি অক্ষর) রয়েছে। এটি কোনো সাধারণ মন্ত্র নয়, এটি আত্মার আকুল আহ্বান।
হরে (Hare)
এটি ভগবানের আহ্লাদিনী শক্তি (আনন্দদায়িনী শক্তি) 'শ্রীমতী রাধারাণী'র সম্বোধন রূপ। এর অর্থ 'যিনি অজ্ঞানতা ও কষ্ট হরণ করেন' এবং জীবাত্মাকে কৃষ্ণের সাথে যুক্ত করেন।
কৃষ্ণ (Krishna)
এর শাব্দিক অর্থ 'যিনি সর্ব-আকর্ষক' (সবাইকে নিজের দিকে আকর্ষণ করেন)। এটি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের নাম, যিনি পরমানন্দের উৎস।
রাম (Rama)
এর অর্থ 'যিনি অসীম আনন্দের উৎস' বা 'যাঁর মধ্যে যোগীরা রমণ করেন'। এটি মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম এবং আনন্দদাতা ভগবানকে নির্দেশ করে।
সামূহিক অর্থ
হে ভগবানের দিব্য আনন্দময়ী শক্তি (হরে)! হে সর্ব-আকর্ষক প্রভু (কৃষ্ণ)! হে অনন্ত আনন্দের উৎস (রাম)! কৃপা করে আমাকে আপনার দিব্য প্রেমভক্তি এবং সেবায় নিযুক্ত করুন।
উদ্বর্তন বা উৎস
হরে कृष्ण মহামন্ত্রের প্রাথমিক লিখিত উল্লেখ কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত "কলি-সন্তরন উপনিষদ"-এ পাওয়া যায়। ব্রহ্মা দেবর্ষি নারদকে উপদেশ দিয়ে বলেন যে কলিযুগের সমস্ত পাপ ও দোষ নাশ করার এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ উপায় আর নেই। ১৬শ শতাব্দীতে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এই মহামন্ত্রকে জনমানসে ছড়িয়ে দেন। পরবর্তীকালে, ২০শ শতাব্দীতে এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ (ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা) এটিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।
সুফল: কলিযুগের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা, ইতিবাচক শক্তি ও আভা, মানসিক শান্তি, মানসিক চাপ ও ব্যসন থেকে মুক্তি, এবং কৃষ্ণ-প্রেমের জাগৃতি।
সুফল
কলিযুগের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা, ইতিবাচক শক্তি ও আভা, মানসিক শান্তি, মানসিক চাপ ও ব্যসন থেকে মুক্তি, এবং কৃষ্ণ-প্রেমের জাগৃতি।