ধনতেরাস ২০২৬: পূজার বিধি, ব্রতকথা, মন্ত্র, আরতি ও শুভ মুহূর্ত

ধনতেরাস ২০২৬: ধন্বন্তরি, দেবী লক্ষ্মী ও কুবের — সোনার মুদ্রা, প্রদীপ ও বাসনপত্র সহ

ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত, দীপাবলির পাঁচ দিনের উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এই শুভ দিনে ভক্তরা সুস্বাস্থ্য, সুখ, সমৃদ্ধি ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় ভগবান ধন্বন্তরি, দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ভগবান গণেশের পূজা করেন।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় ভগবান ধন্বন্তরি অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই ধনতেরাসকে স্বাস্থ্য, আরোগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেন, প্রদীপ জ্বালান, পূজা করেন এবং নিজেদের পারিবারিক রীতি অনুযায়ী সোনা, রুপো বা নতুন বাসনপত্র কেনেন।

এই নিবন্ধে ধনতেরাস ২০২৬-এর তারিখ, শুভ মুহূর্ত, পূজার সামগ্রী, পূজার বিধি, প্রচলিত ব্রতকথা, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র এবং আরতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

ধনতেরাস ২০২৬-এর তারিখ ও শুভ মুহূর্ত

ধনতেরাস ২০২৬ পালিত হবে শুক্রবার, ৬ নভেম্বর। এই উৎসব কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে উদযাপিত হয়।

ধনতেরাস ২০২৬-এর প্রধান সময়সূচি:

  • ধনতেরাসের তারিখ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ত্রয়োদশী তিথির শুরু: ৬ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিট
  • ত্রয়োদশী তিথির সমাপ্তি: ৭ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৭ মিনিট
  • ধনতেরাস পূজার শুভ মুহূর্ত: সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত, আনুমানিক

স্থানীয় পঞ্জিকা ও সূর্যাস্তের সময় অনুসারে এই সময় পরিবর্তিত হতে পারে। পূজা করার আগে নিজের শহরের নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা থেকে শুভ মুহূর্ত যাচাই করে নিন।

ধনতেরাস পূজার সামগ্রী

পূজা শুরু করার আগে নিচের সামগ্রীগুলি প্রস্তুত রাখুন:

  • ভগবান গণেশ, দেবী লক্ষ্মী, ভগবান ধন্বন্তরি ও ভগবান কুবেরের মূর্তি বা ছবি
  • কাঠের চৌকি ও পরিষ্কার কাপড়
  • প্রদীপ, তুলোর সলতে, ঘি বা তেল
  • ধূপকাঠি ও কর্পূর
  • সিঁদুর, হলুদ, চন্দন ও অক্ষত
  • তাজা ফুল ও ফুলের মালা
  • ফল, মিষ্টি ও নৈবেদ্য
  • পূজার কলস, জল ও চামচ
  • মুদ্রা, ধাতব বাসন বা পূজার অন্যান্য সামগ্রী
  • যমদীপদানের জন্য মাটির প্রদীপ

পারিবারিক রীতি ও আঞ্চলিক প্রথা অনুসারে পূজার সামগ্রী কিছুটা আলাদা হতে পারে।

ধনতেরাস পূজার বিধি: কীভাবে পূজা করবেন?

১. ঘর পরিষ্কার ও সাজসজ্জা করুন

উৎসবের আগে বাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। প্রধান প্রবেশদ্বারে আলপনা বা রঙোলি আঁকুন এবং ফুল ও প্রদীপ দিয়ে ঘর সাজান। অনেক পরিবার দেবী লক্ষ্মীর আগমন বোঝাতে প্রবেশদ্বারে ছোট ছোট পদচিহ্নও আঁকেন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুত করুন

কাঠের চৌকির ওপর পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে গণেশ, লক্ষ্মী, ধন্বন্তরি ও কুবেরের মূর্তি বা ছবি রাখুন। পূজার সামগ্রী, ফুল, ফল ও নৈবেদ্য হাতের কাছে সাজিয়ে রাখুন।

৩. প্রথমে ভগবান গণেশের পূজা করুন

গণেশকে ফুল, অক্ষত ও প্রদীপ নিবেদন করুন। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া এবং জীবনের বাধাবিপত্তি দূর হওয়ার জন্য প্রার্থনা করুন।

গণেশ মন্ত্র:

ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ॥

এই মন্ত্র ভক্তিভরে জপ করুন।

৪. ভগবান ধন্বন্তরির পূজা করুন

ভগবান ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদ ও স্বাস্থ্যের দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাঁকে ফুল, জল ও ফল নিবেদন করে পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করুন।

এই সময় ধন্বন্তরি মন্ত্র জপ করতে পারেন।

৫. দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান কুবেরের পূজা করুন

দেবী লক্ষ্মীকে সিঁদুর, ফুল, মিষ্টি ও মুদ্রা নিবেদন করুন। সম্পদের অধিপতি হিসেবে পরিচিত ভগবান কুবেরের পূজা করে আর্থিক স্থিতিশীলতা, ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করুন।

পরিবারে সুখশান্তি বজায় থাকা এবং সম্পদ সৎ কাজে ব্যবহার করার বুদ্ধি লাভের জন্য প্রার্থনা করুন।

৬. নতুন বাসনপত্র ও মুদ্রার পূজা করুন

ধনতেরাসের দিনে অনেক পরিবার সোনা, রুপো, নতুন বাসনপত্র বা মুদ্রা কিনে সেগুলির পূজা করেন। এগুলি পূজার স্থানে রেখে ফুল ও অক্ষত নিবেদন করতে পারেন।

তবে নতুন জিনিস কেনা বাধ্যতামূলক নয়। ভক্তিভরে পূজা করাও এই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৭. প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন

বাড়ির ঠাকুরঘর, প্রধান প্রবেশদ্বার এবং উপযুক্ত স্থানে প্রদীপ জ্বালান। গণেশ, লক্ষ্মী ও ধন্বন্তরির মন্ত্র জপ করে আরতি করুন।

নৈবেদ্য নিবেদন করে পরিবারের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করুন।

৮. যমদীপদান করুন

ধনতেরাসে যমদীপদান করার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। যমরাজের উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য বা স্থানীয় রীতি অনুসারে এই আচার পালন করুন।

ধনতেরাসের ব্রতকথা

রাজা হিমের পুত্রের কাহিনি

ধনতেরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জনপ্রিয় প্রচলিত কাহিনি হলো রাজা হিমের পুত্রের গল্প।

কাহিনি অনুসারে, ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে রাজা হিমের পুত্রের বিয়ের চতুর্থ দিনে সাপের কামড়ে মৃত্যু হবে। এই কথা জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী স্বামীকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।

নির্ধারিত রাতে তিনি সোনা, রুপোর অলংকার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করে ঘরের প্রবেশদ্বারে স্তূপ করে রাখেন। চারপাশে অসংখ্য প্রদীপও জ্বালিয়ে দেন।

স্বামী যাতে ঘুমিয়ে না পড়েন, সে জন্য তিনি তাঁকে গল্প শোনাতে থাকেন এবং গান গেয়ে রাত জাগিয়ে রাখেন। যমরাজ যখন সাপের রূপে সেখানে আসেন, তখন প্রদীপের আলো ও মূল্যবান সামগ্রীর স্তূপ তাঁর পথ আটকে দেয়।

সাপটি সেই সামগ্রীর ওপর উঠে বসে। কিন্তু প্রদীপের আলো এবং নারীর গানের প্রতি তার মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। এভাবেই রাত কেটে যায়। রাজপুত্রের মৃত্যুর নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় সাপটি সেখান থেকে চলে যায় এবং রাজপুত্রের প্রাণ রক্ষা পায়।

এই প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, প্রদীপ জ্বালানোর রীতি পরিবারের সুরক্ষা, দীর্ঘায়ু ও অকালমৃত্যু থেকে রক্ষার প্রার্থনার সঙ্গে যুক্ত।

বিশেষত ধনতেরাসে যমদীপদানের প্রথার প্রসঙ্গে এই কাহিনি স্মরণ করা হয়।

ধনতেরাসের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র

১. ভগবান ধন্বন্তরি মন্ত্র

মন্ত্র:

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় ধন্বন্তরয়ে অমৃতকলশহস্তায় সর্বাময়বিনাশায় ত্রৈলোক্যনাথায় শ্রীমহাবিষ্ণবে নমঃ॥

অর্থ: অমৃতের কলস ধারণকারী এবং স্বাস্থ্য ও মঙ্গল প্রদানকারী শ্রীমহাবিষ্ণুর স্বরূপ ভগবান ধন্বন্তরিকে প্রণাম।

সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য এই মন্ত্র জপ করা যেতে পারে।

২. দেবী লক্ষ্মীর মন্ত্র

মন্ত্র:

ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ॥

অর্থ: সম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী মহালক্ষ্মীকে প্রণাম।

ধনতেরাস ও দীপাবলিতে দেবী লক্ষ্মীর পূজার সময় এই মন্ত্র জপ করতে পারেন।

৩. ভগবান কুবেরের মন্ত্র

মন্ত্র:

ওঁ যক্ষায় কুবেরায় বৈশ্রবণায় ধনধান্যপতয়ে ধনসমৃদ্ধিং মে দেহি দাপয় স্বাহা॥

অর্থ: ধনসম্পদ, শস্য, সমৃদ্ধি এবং জীবনের প্রয়োজনীয় সম্পদ লাভের জন্য ভগবান কুবেরের কাছে প্রার্থনা।

৪. যমদীপদানের মন্ত্র

মন্ত্র:

মৃত্যুনা পাশদণ্ডাভ্যাং কালেন শ্যাময়া সহ।
ত্রয়োদশ্যাং দীপদানাত্ সূর্যজঃ প্রীয়তাং মম॥

অর্থ: ধনতেরাসে প্রদীপ নিবেদনের সময় যমরাজের আশীর্বাদ ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রচলিত এই প্রার্থনা পাঠ করা হয়।

আঞ্চলিক ঐতিহ্য অনুসারে মন্ত্রের পাঠে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।

ধনতেরাসের আরতি

ধনতেরাসের পূজায় আরতির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের আরতি করেন। ভগবান ধন্বন্তরি ও কুবেরেরও ভক্তিভরে পূজা করা হয়।

ধনতেরাসের পূজায় নিচের আরতিগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন:

  • শ্রী লক্ষ্মী মাতার আরতি: দেবী লক্ষ্মীর উপাসনার জন্য প্রচলিত ওঁ জয় লক্ষ্মী মাতা আরতি পাঠ করুন।
  • শ্রী গণেশের আরতি: বাধাবিপত্তি দূর ও মঙ্গল কামনায় জয় গণেশ দেবা আরতি পাঠ করুন।
  • ভগবান ধন্বন্তরির প্রার্থনা: সবশেষে সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করুন।

আরতির পর দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রদীপ নিবেদন করুন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করুন এবং সুখশান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করুন।

ধনতেরাস কেন পালন করা হয়?

ধনতেরাসের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অনেক।

ভগবান ধন্বন্তরির পূজা: ধন্বন্তরিকে স্বাস্থ্য ও আয়ুর্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত দেবতা হিসেবে সম্মান করা হয়। তাঁর পূজা সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

দেবী লক্ষ্মীর পূজা: সম্পদ, সৌভাগ্য, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর উপাসনা করেন।

ভগবান কুবেরের পূজা: কুবেরকে সম্পদ ও ধনভাণ্ডারের রক্ষক হিসেবে মানা হয়।

প্রদীপ জ্বালানো: প্রদীপ আলো, আশা এবং অন্ধকারের ওপর আলোর জয়ের প্রতীক।

সোনা, রুপো ও বাসনপত্র কেনা: অনেক পরিবার এই রীতিকে সমৃদ্ধি ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।

ধনতেরাস সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ধনতেরাস ২০২৬ কবে?

ধনতেরাস ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে।

ধনতেরাসের পূজার শুভ মুহূর্ত কখন?

সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে আনুমানিক পূজার উপযুক্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পঞ্জিকা থেকে সময় যাচাই করুন।

ধনতেরাসে কোন দেবদেবীর পূজা করা হয়?

ভগবান ধন্বন্তরি, দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ভগবান গণেশের পূজা প্রধানত করা হয়।

ধনতেরাসে কোন মন্ত্র জপ করা উচিত?

স্বাস্থ্যের জন্য ধন্বন্তরি মন্ত্র, সমৃদ্ধির জন্য লক্ষ্মী মন্ত্র এবং ধনসম্পদের জন্য কুবের মন্ত্র জপ করা যেতে পারে।

ধনতেরাসে সোনা কেনা কি বাধ্যতামূলক?

না। সোনা বা রুপো কেনা একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। ভক্তিভরে পূজা করা এবং পারিবারিক রীতি পালন করাও এই উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ধনতেরাসে প্রদীপ জ্বালানো হয় কেন?

প্রদীপ জ্বালানো শুভ, আশা ও আলোর প্রতীক। যমদীপদান পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় পালন করা একটি প্রচলিত প্রথা।

আপনার ভক্তি অব্যাহত রাখুন

এই দিনে আপনার উপাসনাকে আরও গভীর করতে এগুলিও পড়তে বা জপ করতে পারেন:

উপসংহার

ধনতেরাস হলো স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি, ভক্তি ও নতুন সূচনার উৎসব। এই দিনে ভগবান ধন্বন্তরি, দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের ও ভগবান গণেশের পূজার মাধ্যমে ভক্তরা পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন।

ধনতেরাসের পূজাবিধি অনুসরণ করে, প্রচলিত ব্রতকথা স্মরণ করে, পবিত্র মন্ত্র জপ করে এবং আরতি নিবেদন করে ভক্তিভরে এই উৎসব পালন করা যায়।

ভগবান ধন্বন্তরি সকলকে সুস্বাস্থ্য দান করুন। দেবী লক্ষ্মী প্রতিটি ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুন। ভগবান গণেশ সকল বাধাবিপত্তি দূর করুন।

সকলকে ধনতেরাস ২০২৬-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা!

← All posts